৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে একটি জয়ের খোঁজে ছিল মিসর। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া গোলে সেই আশাও জাগিয়েছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আত্মঘাতী এক গোল সেই সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছে। তাতে সিয়াটলে শুরুর ম্যাচে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মোহাম্মদ সালাহরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধ
খেলার ধারার বিপরীতে আশুরের করা একমাত্র গোলে শুরুতে লিড নেয় মিসর। ম্যাচের ১৯ মিনিটে দারুণ এক ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তাতে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে মিসর।
বেলজিয়াম প্রথমার্ধে মোটেও নিজেদের সেরা ছন্দে ছিল না। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ছিল না ধার। মিসরের রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেয়েছে তারা। এমনকি প্রথমার্ধে লক্ষ্যভেদী একটি শটও নিতে পারেনি ইউরোপের শক্তিশালী এই দল। বিরতির ঠিক আগে জেরেমি ডোকুর সামনে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধ ও আত্মঘাতী গোল
তবে বিরতির পর ৬৬ মিনিটে অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু মাঠে নামলে দৃশ্যপট পাল্টায়। নেমেই ম্যাচে প্রভাব ফেলেন বেলজিয়ার স্ট্রাইকার। তার প্রভাবে বেলজিয়াম স্কোরে সমতা আনে। তখন ইউরি টিলেমানস ডান প্রান্তে দারুণ একটি পাস বাড়ান থমাস মুনিয়েরের উদ্দেশে। মুনিয়ের বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ক্রস তুললে দ্রুত মাঝখানে ঢুকে পড়েন লুকাকু। বেলজিয়ান স্ট্রাইকারের উপস্থিতিতে মিসরের দুই ডিফেন্ডার ইব্রাহিম ও হানির মধ্যে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। শেষ পর্যন্ত বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন হানি। ফলে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
এই ড্রয়ের ফলে মিসরের বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। অন্যদিকে বেলজিয়ামও দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে এসে একটি পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হলো।



