টিউবওয়েল চুরির অভিযোগে যুবককে জুতা পেটা ও চুল কাটা: তিন আসামি গ্রেপ্তার
টিউবওয়েল চুরির অভিযোগে যুবক নির্যাতন: তিন গ্রেপ্তার

টিউবওয়েল চুরির অভিযোগে যুবককে জুতা পেটা ও চুল কাটা: তিন আসামি গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে টিউবওয়েল চুরির অভিযোগ তুলে এক যুবককে জুতা দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের আওলাদ হোসেন (৫০), আরিফ (৩০) ও আনেছ (৪৫)। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মো. রাকিব (২৪) একই গ্রামের মৃত মো. খোরশেদের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী রাকিব।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহারে রাকিব উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। ওই এলাকার লতিফ ভান্ডারির সঙ্গে তার পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এই ঘটনার জেরেই চোর অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি টিউবওয়েল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে লতিফ ভান্ডারির ছেলে রতনসহ কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে ফতেপুর স্কুল মাঠে নিয়ে যান।

সেখানে হারুন বেপারীর বাড়ির টিউবওয়েল চুরির অভিযোগে তাকে চোর সাব্যস্ত করা হয়। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও উপস্থিত সালিশে চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দ্বীন ইসলামের নির্দেশে শেরুন বেপারী তাকে এলোপাতাড়িভাবে প্রায় ৫০টি জুতা পেটা করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত হন। পরে লতিফ ভান্ডারি ও দ্বীন ইসলামের নির্দেশে রতন মেশিন দিয়ে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন।

অন্যান্য আহত ও সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ

এ সময় তার ফুফাতো ভাই শরীফ বাধা দিতে এলে তাকেও লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এছাড়া তার ফুফু আরজুদা (৪৫) ও মা শিরিনা আক্তার (৪৫)-কেও কাঠের বাটাম ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। আরজুদার ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আসামির বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। মাদক ও চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে আওলাদ হোসেন দাবি করেন, রোববার রাতে রাকিব টিউবওয়েলের মাথা চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এবং বিচারে স্বীকারোক্তি দেন। তার দাবি, রাকিব আগেও চুরির ঘটনায় জেলে গেছেন এবং মাদকের সঙ্গেও জড়িত।

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, "চুরির অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। তবে সালিশে তার মাথার চুল কেটে জুতা দিয়ে মারধরের ঘটনা প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে।" মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক বলেন, "সে আগে যা-ই করে থাকুক, সেটি আগের বিষয়। বর্তমানে সে মামলা করেছে, আর এ মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"