মৌলভীবাজারে পিতাকে খুন্তি দিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক ব্যক্তিকে খুন্তি দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিষ্ণু প্রসাদ রিকমন নামের এই যুবককে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নিহত ব্যক্তির নাম লছমন রিকমন, যিনি বয়সে ছিলেন ৫০ বছর। তাঁর স্থায়ী বাসস্থান চাতলাপুর ফাঁড়ি চা-বাগানের বেগমটিলা এলাকায়। অপরদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া ছেলের নাম বিষ্ণু প্রসাদ রিকমন, যার বয়স ২৫ বছর। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি লছমন রিকমন ও তাঁর পুত্র বিষ্ণু প্রসাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে বিষ্ণু প্রসাদ রাগে অন্ধ হয়ে রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো খুন্তি নিয়ে তাঁর বাবার তলপেটে জোরে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় লছমন রিকমনকে দ্রুত সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যা পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলে।
পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া
ঘটনার পর বিষ্ণু প্রসাদ রিকমন দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যান, যা তদন্তকে জটিল করে তোলে। তবে গোপন সূত্রের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়। এই দল বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর চা-বাগানে সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে বিষ্ণু প্রসাদকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করে।
একই রাতে নিহত লছমন রিকমনের ছোট ছেলে বিশ্বজিৎ রিকমন বাদী হয়ে বিষ্ণু প্রসাদকে আসামি করে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা আইনি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা বিষ্ণু প্রসাদের গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাঁকে শিগগিরই মৌলভীবাজারের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে।
এই ঘটনা পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও অভিযান সাফল্য অর্জন করেছে, তবে সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আরও সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
