প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতায় অপহৃত স্কুলছাত্রের দ্রুত উদ্ধার
রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র আফনান সাঈদকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি রমনা মডেল থানা পুলিশ চারজন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অপহরণকারীদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম (২৪), ইফফাত ইয়ামিন লিখন (২৩), হাসান আল বান্না ওরফে হাসান (২০) ও মুস্তাকিমুর রহমান ওরফে কুঞ্জ (২১)। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
অপহরণের ঘটনা ও মুক্তিপণের দাবি
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শান্তিনগর মোড়ে বাটা শোরুমের সামনে থেকে ভুক্তভোগী আফনানকে কৌশলে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারী ওয়াহিদুর রহমান শান্ত (যাকে আগে গ্রেফতার করা হয়েছে) তাকে চামেলিবাগের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ
ভুক্তভোগীর বাবা সচিবালয়ের একজন কর্মচারী হওয়ায় তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার সুযোগ পান। ঘটনা জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভিকটিম উদ্ধারের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর রমনা মডেল থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে।
অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রম
পরে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ছাত্রকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার এবং চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা পেশাদার অপরাধী চক্রের সদস্য। এর আগেও তারা অন্তত ছয়টি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
অপরাধীদের পূর্ববর্তী কার্যক্রম
তারা মূলত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনাটি পুলিশের দ্রুত তৎপরতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
