পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন গঠন করবে না সরকার
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নতুন তদন্ত কমিশন গঠন হবে না

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন কমিশন গঠন করবে না সরকার

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন কোনো তদন্ত কমিশন গঠন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত 'জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন'-এর রিপোর্টই পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গৃহমন্ত্রীর বক্তব্য সংশোধন

বুধবার শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং এর রিপোর্ট ইতিমধ্যেই আমাদের কাছে রয়েছে। কয়েকদিন আগে আমি সম্পূর্ণ রিপোর্ট পর্যালোচনা না করেই মন্তব্য করেছিলাম। আজ আমি সেটি সংশোধন করছি। আমরা নতুন কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করব না।'

তিনি আরও যোগ করেন যে কমিশনটি অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করায় নতুন কোনো সংস্থা গঠনের প্রয়োজন নেই। 'রিপোর্টে উল্লিখিত অনেক সুপারিশ ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মুলতবি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।'

রিপোর্টের সুপারিশ বাস্তবায়ন

অবশিষ্ট সুপারিশগুলো সম্পর্কে গৃহমন্ত্রী বলেন যে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। 'আমরা শহীদদের পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এমন ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সরকার সতর্ক থাকবে।'

পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই ঘটনার লক্ষ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা হতে পারে। 'যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না অথবা বাংলাদেশকে একটি দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তাদের এমন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।'

পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসা

উল্লেখ্য, গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠিত কমিশনের রিপোর্টে আস্থা প্রকাশ করেননি এবং ঘটনার 'প্রকৃত রহস্য' উদ্ঘাটনের জন্য নতুন তদন্ত শুরু করার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি এখন তার অবস্থান সংশোধন করেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক গঠিত 'জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন' ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্ত করে। কমিশনের রিপোর্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয় এবং একটি প্রতিবেশী দেশের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে শহীদদের পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আশা করছেন যে বিদ্যমান রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, আবার কেউ কেউ নতুন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন।