বিডিআর বিদ্রোহ তদন্তে নতুন কমিশন গঠনের ঘোষণা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিডিআর বিদ্রোহ তদন্তে নতুন কমিশন গঠনের ঘোষণা

বিডিআর বিদ্রোহ তদন্তে নতুন কমিশন গঠনের ঘোষণা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) বিদ্রোহের ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জন্য নতুন একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে, ইশতেহারের মধ্যেও আছে। আমরা বিডিআরের ঘটনাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনঃতদন্ত অথবা একটা কমিশন গঠন করে কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে কাজ করব। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

আইনের শাসন ও মামলা বিষয়ে পদক্ষেপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার কিছুক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সমাজের বিশিষ্টজন ও সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে পুলিশকে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ মামলাবাজির শিকার হয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন।

অস্ত্র লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত

বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছে, তারা এটার উপযুক্ত কি না, সেটা যাচাই করা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যারা লাইসেন্স পেয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। এসব লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে।’ জুলাই বিপ্লবের সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের ব্যাপারে তিনি বলেন, তার জানা মতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যা অবৈধ এবং এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগুলো উদ্ধার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশ সংস্কার ও নিয়োগের উদ্যোগ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ বরদাস্ত করা হবে না। মহাসড়ক অবরোধ বা সহিংসতার মাধ্যমে দাবি আদায়ের দিন শেষ। বৈধ উপায়ে দাবি উপস্থাপন করতে হবে। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ ছাড়া সমাজ টিকে থাকতে পারে না। তাই সংস্কারের মাধ্যমে বাহিনীর মনোবল বাড়াতে হবে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে যেন জনগণ কোনো হয়রানির শিকার না হয়। এসময় তিনি জানান, পুলিশ বাহিনীতে জরুরি ভিত্তিতে খুব শিগিগরই ২ হাজার ৭০০ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

পাসপোর্ট সেবা ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত

মন্ত্রী বলেন, পাসপোর্টসেবা নিয়ে জনগণের অনেক অভিযোগ আছে। পাসপোর্ট অফিসের সামনে কিছু লোকজনের যোগসাজশে জনগণ অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়ে। সেটা নিরসনে রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের ন্যায় তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হলে সেবা সহজীকরণ হবে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে। জনগণের হয়রানি ও ভোগান্তি নিরসনে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত এসআইদের নতুন করে নিয়োগ প্রদান করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ প্রদান করা হবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপাররা (এসপি) অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে প্রটোকল দিয়ে থাকেন। এখন থেকে বিধির বাইরে গিয়ে এসপিরা কাউকে প্রটোকল দেবেন না। এখন থেকে পুলিশের ওসি ও এসপি পদায়নে লটারি পদ্ধতি থাকবে না। যিনি যেখানে যোগ্য, তাকে সেখানে পদায়ন করা হবে।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. গোলাম রসুল, র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব দেলোয়ার হোসেন, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ছিবগাত উল্লাহ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার, এনটিএমসির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান সরোয়ার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান উপস্থিত ছিলেন।