আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ: মিরপুরের জাহাজবাড়ি হত্যাকাণ্ড মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের আত্মসমর্পণের নোটিশ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রবিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করেছে, যাতে মিরপুরের জাহাজবাড়িতে নয় যুবকের হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় পলাতক ছয় অভিযুক্তের আত্মসমর্পণের জন্য সংবাদপত্রে নোটিশ প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পাঁচ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির তারিখ হিসেবে ৮ মার্চ নির্ধারণ করেছে।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ ও বিচারিক প্রক্রিয়া
রবিবারের শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দুই সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ পাস করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার। অভিযোগপক্ষের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, যাকে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার ও আবদুস সাত্তার পালওয়ান। মামলাটিতে মোট আটজন অভিযুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষকে অবশিষ্ট ছয় অভিযুক্তকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।
গ্রেপ্তার ও পলাতক অভিযুক্তদের তালিকা
গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত হলেন সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। অন্যদিকে, পলাতক ছয় অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন:
- সাবেক গৃহায়নমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
- সাবেক ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান
- সাবেক সিটিটিসি প্রধান মুনিরুল ইসলাম
- সাবেক ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায়
- সাবেক যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন
- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ট্রাইব্যুনাল গত ২৯ জানুয়ারি আট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ওয়ারেন্ট জারি করেছিল।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
প্রসিকিউটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কালিয়ানপুরের জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি বাড়িতে পুলিশের একটি অভিযানে নয়জন যুবক নিহত হন। এই অভিযানটি “অপারেশন স্টর্ম-২৬” নামে পরিচিত ছিল। ঘটনাটিকে একটি স্টেজড অপারেশন বা পরিকল্পিত অভিযান হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরিণত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশ মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংবাদপত্রে প্রকাশিত নোটিশে পলাতক অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানানো হবে। যদি তারা আদালতে হাজির না হন, তাহলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই মামলাটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
