উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাত্রা, সেখানে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে কাটছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির দিন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার এই মেধাবী শিক্ষার্থী শেষবারের মতো নিজ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে ফিরলেন কফিনে বন্দী হয়ে। শনিবার (৯ মে) দুপুর দেড়টার দিকে বাড়িতে পৌঁছালে বৃষ্টিকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী।
শেষবারের মতো বাড়ি ফেরা
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বৃষ্টির মরদেহ। সেখানে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় বৃষ্টির মরদেহ দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন ও গ্রামবাসী। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। সর্বশেষ তাকে তার দাদা-দাদির পাশে কবর দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে।
মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিচয়
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দুপুরের এটিএম বাজার এলাকার জহির উদ্দিন আকন ও আলভী বেগম দম্পতির মেয়ে। স্বজনরা জানান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টি। পরে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান। সেখানেই হত্যার শিকার হন তিনি।
গ্রামের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক
দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি ও তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামের বাড়ির সঙ্গে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। ছুটি পেলেই বৃষ্টি বাড়িতে আসতেন। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের হওয়ায় এলাকায় সবার কাছে প্রিয় ছিলেন তিনি। চাচাতো বোন ফজিলা আক্তার বলেন, 'আমরা কিছুতেই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমরা অপরাধীদের শাস্তি চাই।'
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে ঢাকায় পৌঁছায়।



