দিনাজপুরের বিরামপুরে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কলেজপড়ুয়া এক তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে বিরামপুর পৌরসভার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (৩৫) ছাত্রদলের বিরামপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার পটভূমি ও বহিষ্কার
তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলার পর গত বছরের ২৫ জুলাই তাঁকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২২ জুলাই ওই তরুণীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকে আসামি আবদুল্লাহ পলাতক ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওই তরুণীকে কলেজে যাতায়াতের পথে প্রেমের প্রস্তাব দেন। সহপাঠীদের সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিও করতেন তিনি। ছাত্রীর পরিবার এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ করে। সালিস বৈঠক হলেও এর কোনো সমাধান হয়নি।
২২ জুলাই সকালে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে কলেজে যাচ্ছিলেন। পথে বিরামপুর পৌর শহরের একটি বিদ্যালয়ের সামনে আবদুল্লাহ ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে তাঁর পথ রোধ করেন। এ সময় আবদুল্লাহ ওই তরুণীর ঘাড়ে থাকা ব্যাগ ও পরনের কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে আবদুল্লাহ তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। তখন ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এরপর আবদুল্লাহ সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের বক্তব্য ও আদালতে প্রেরণ
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, কলেজপড়ুয়া এক তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। আজ বিকেলে আবদুল্লাহকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে আজ বিকেলে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
