মানিকগঞ্জে আইনজীবীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: পারিবারিক কলহের সন্দেহ
মানিকগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী শহিদুল ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চর বেউথা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।
আইনজীবীর পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
শহিদুল ইসলাম (৩৬) শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের যমুনাবাদ এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে হিসেবে পরিচিত। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম চর বেউথা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় তার স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাসার একটি কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন এবং রাত ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশটি পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও মামলা
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পারিবারিক কলহের কারণে ওই আইনজীবী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং আমরা আরও তদন্ত চালাচ্ছি।’
পুলিশের মতে, শহিদুল ইসলামের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক কলহ একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং আইনজীবীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এই ঘটনা মানিকগঞ্জের স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে আইনী পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে। পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
