ফেনীতে আদালত চলাকালীন বিচারকের সামনেই বিষপান করেছেন এক নারী বিচারপ্রার্থী। পরে গুরুতর অবস্থায় তাহমিনা আক্তার মোহনাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার (১০ মে) দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিনের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
হতাশা থেকে বিষপান
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজের মামলার কার্যক্রম নিয়ে হতাশা ও মানসিক চাপে ছিলেন মোহনা। শুনানির সময় হঠাৎ করেই তিনি সঙ্গে থাকা বিষপান করেন। এ সময় কাঠগড়ায় তার স্বামী উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত কক্ষের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিয়ের পর থেকে নির্যাতন
জানা গেছে, ২০২৫ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর চার সন্তানের জনক ফুলগাজীর বিজয়পুর এলাকার আকবর হোসেনকে বিয়ে করেন মোহনা। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বনিবনা না হওয়ায় গত ২৯ জানুয়ারি তিনি আদালতে যৌতুকের মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। বিচার না পেয়ে দীর্ঘদিন আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশা থেকেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ
ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, বিষপানের পর তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
আইনজীবীর বক্তব্য
এ বিষয়ে মোহনার আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, বিয়ের পর থেকে মোহনাকে তার স্বামী স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। সবসময় তাকে নির্যাতন করা হতো। স্বামীর বাড়িতে গাছের সঙ্গে বেঁধে পর্যন্তও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি নির্যাতিত হতে হতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি আরও বলেন, রোববার মামলাটি আপস-মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু আদালত থেকে বারবার সময় নিয়ে আসামি বাদীর সঙ্গে প্রতারণা করছিল। মামলার শুনানির সময় ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি বিষপান করেন। শুনানি শেষে আসামির জামিন বাতিল করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



