ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়ায় বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ: শিক্ষাবিদ
ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়ায় বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ

মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়ায় দেশের বিচারব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘১৩ বছরেও ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া আমাদের বিচারব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ বিচার শুধু ত্বকীর পরিবারের জন্য নয়, সমাজের দায়মুক্তির জন্যও প্রয়োজন।’

মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি

শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৫৮ মাস উপলক্ষে আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। ত্বকী হত্যার পর থেকে ঘাতকদের বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখে ধারাবাহিকভাবে মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ইতিমধ্যে দুটি সরকার চলে গেছে। আমরা বর্তমান সরকারের কাছেও দ্রুত ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করছি।’

বক্তব্য ও উপস্থিতি

সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। রফিউর রাব্বি বলেন, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে চব্বিশে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল, সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। মানুষে মানুষে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিচারব্যবস্থা এখনো স্বাধীন হয়ে ওঠেনি। পরিবর্তন ও সংস্কারের যে স্বপ্ন মানুষকে উদ্বেলিত করেছে, তাকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্বকীর বাবা আরও বলেন, ত্বকীর হত্যাকারীরা বিদেশে রাজকীয় জীবন যাপন করছে। শেখ হাসিনার শাসনামলের মতো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ত্বকী হত্যায় সুবিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলার সভাপতি মাহমুদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

ঘটনার পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত (ভ্রমর) এবং ২৪ নভেম্বর ২০২৪ কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও পেশ করা হয়নি।