আদালত প্রাঙ্গণে আফজাল নাছের। ৮ মে ২০২৬ছবি: প্রথম আলো
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম আবদুল হক আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার থেকে আফজাল নাছের তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। গত ৩০ মার্চ গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে এলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা অতর্কিত গুলি চালান। এতে আহত হন অনিক কুমার দাস। তাঁকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়েন অনিক।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ২ নম্বর আসামি ওবায়দুল কাদেরের সরাসরি উসকানিতে ৩ নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং ১৭ নম্বর আসামি আফজাল নাছেরের পূর্বপরিকল্পিত নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিক কুমার দাস নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হন। তাঁর শরীরে এখনো চারটি স্প্লিন্টার রয়েছে। ওই ঘটনায় অনিক কুমার দাস কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
রিমান্ড আবেদনের কারণ
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হামলার প্রকৃত মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত, পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত উদ্ধারের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে পাঠানো হোক।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ১৭ নম্বর আসামি আফজাল নাছেরের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



