মদিনাতুস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নেতারা আওয়ামী শাসনামলে ‘গণহত্যার বিচার’ এবং শিক্ষা কারিকুলামে ‘শাপলা গণহত্যা’ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শিক্ষা কারিকুলামে শাপলা গণহত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক এক সেমিনার থেকে এ দাবি করা হয়। সেমিনারটি আয়োজন করে মদিনাতুস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্রথম গণহত্যা চালিয়েছেন শাপলা চত্বরে এবং দ্বিতীয় গণহত্যা চালিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার বিচার হতে হবে এবং শেখ হাসিনার ফাঁসি হতে হবে। জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের বিচারও হতে হবে এবং শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
রাশেদ খান শাপলা গণহত্যা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা রেজিমে বাংলাদেশে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সে যেভাবে জুলুম ও খুন করেছে, তার ওপর একটি ডকুমেন্টারি ‘শেখ হাসিনার জুলুমতন্ত্র’ নামে তৈরি হওয়া দরকার। পাঠ্যপুস্তকে তার ঘৃণিত অপরাধ অন্তর্ভুক্ত থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শেখ হাসিনার প্রতি ঘৃণা পোষণ করবে। আলেম ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার নির্দেশনা দেওয়ার ঘটনা লিপিবদ্ধ থাকবে।’ তিনি জানান, ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যন্ত এই দাবি পৌঁছে দেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্য
সেমিনারের সভাপতি ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাহমুদুল হক হাফিজ্জী বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শিক্ষা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জুলাই শহীদ পরিবার যে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, হেফাজতের শহীদদের পরিবার তা পাননি। জুলাই হত্যা মামলার বিচার যেভাবে অগ্রগামী হচ্ছে, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যার বিচার সেভাবে অগ্রগামী হয়নি।
অন্যান্য বক্তারা
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম লন্ডনের মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, জাতীয় ইমাম খতিব সংস্থার চেয়ারম্যান মুফতি আবু তাহের আল মাদানী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম লন্ডনের মাওলানা শোয়াইব আহমেদ, ইমাম সমাজের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসাইন, মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, মুফতি রহমাতুল্লাহ আরাবী, শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ আহমেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মুফতি তৈয়ব হোসাইন, মাওলানা মির্জা ইয়াসিন আরাফাত ও মাওলানা হাবিব আহমেদ প্রমুখ।



