কুমিল্লায় সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে ফারিয়ার বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগ এনে পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।
মামলায় আসামিরা কারা?
মামলায় ফারিয়ার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়, তার বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও তার স্বামী জাকারিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ অভিযোগটি আত্মহত্যার প্ররোচনার সংশ্লিষ্ট ধারায় রেকর্ড করেছে।
পুলিশের বক্তব্য
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার। তিনি বলেন, ফারিয়ার বাবার অভিযোগ আপাতত আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত আসলে তখন বিধি মোতাবেক মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত হবে। ওসির ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে ফারিয়ার স্বামীসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের আটক করতে পারলে ঘটনার রহস্যের জট খুলবে। পুলিশের অভিযান চলছে।
বিয়ের পর যৌতুকের দাবি
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার দেনমোহরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এতে ফারিয়া তার স্কুলশিক্ষক বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় পরিবারে আরও কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
বাবার দাবি: হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক
ফারিয়ার বাবা বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে আসামিরা হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে আনে। থানায় লাশ নেওয়ার পর আমাদের জানানো হয় ফারিয়া আত্মহত্যা করেছে। তিনি মেয়ে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবি করেন।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি (মুন্সেফবাড়ি) এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। ফারিয়া (২৩) কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।



