জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। রোববার (৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার বর্তমান অবস্থা
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, বিবাদীদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম তার পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন কর্মকর্তার জেরা সম্পন্ন হয়। ১৯ এপ্রিল তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছিল। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোসহ অন্যান্য আইনজীবীরা তাকে জেরা শেষ করলে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের (৩ মে) তারিখ নির্ধারণ করেন।
অভিযোগের বিবরণ
প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উস্কানি দেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক। যার ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও সহায়তার ফলে রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন শহীদ হন। এছাড়া উত্তরার পৃথক একটি ঘটনায় ৩৪ জনকে হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



