ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়ার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরীর আদালত এই আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রুবেল মিয়া তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, “আসামি দীর্ঘদিন ধরে জেলহাজতে রয়েছে। এছাড়া তিনি একজন নারী আসামি। কিছু দিন আগে এই আসামির মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আসামি কোনোভাবেই জড়িত নয়। মূল ঘটনার সঙ্গে আসামি ফয়সাল করিম জড়িত থাকতে পারেন, স্ত্রী নয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামির জামিনের প্রার্থনা করেন।” রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে।
আটক ও রিমান্ড
এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সামিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর দুই দফায় তার ৯ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর সামিয়া দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটর সাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
মামলা ও চার্জশিট
এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীকালে এটা হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়। এরপর গত ৬ জানুয়ারি এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি দাখিল করেন। ওইদিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।



