বছিলা পশুর হাট নিয়ে বিরোধে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত, মামলা দায়ের
বছিলা পশুর হাট বিরোধে সন্ত্রাসী টিটন নিহত, মামলা

বছিলা পশুর হাট নিয়ে বিরোধের জেরে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন ওরফে নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। রাজধানীর নিউমার্কেটের বটতলায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে মামলা করেন তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। নিউমার্কেট থানায় করা এই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিরোধের কারণ

অভিযোগে বছিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান ও রনি ওরফে ডাগারি রনির সঙ্গে বিরোধের উল্লেখ করা হয়েছে। নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টিটনের পরিচিতি

পুলিশ জানায়, ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিলেন টিটন। দীর্ঘদিন জেলে থাকা টিটন ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্ত হন। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসীদের কেউ তাকে হত্যা করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার এজাহারে বিবরণ

টিটনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, বছিলা পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের ধারণা। এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘসময় কারাভোগের পর গত বছরের ১৩ আগস্ট টিটন জামিনে মুক্তি পান। এরপর মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতীতে পরিবারের সম্মানহানি ও আর্থিক ক্ষতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং সৎ পথে জীবন গড়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কয়েকদিন আগে টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন, তিনি হাটের ইজারা সংক্রান্ত কাগজপত্র (শিডিউল) কিনেছেন এবং ব্যবসা করতে চান। ২৬ এপ্রিল টিটন তার ভাইকে জানান, বছিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলাল, বাদল, শাহজাহান ও রনির সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। পরদিন ২৭ এপ্রিল জানান, বিরোধ মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তাকে একটি মিটিংয়ে ডাকা হয়েছে। এরপরেই মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, নিউমার্কেটের শাহনেওয়াজ হলের সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টিটনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত

পুলিশ জানায়, বছিলার পশুরহাটের দরপত্র কেনা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছাড়াও আন্ডারওয়ার্ল্ডে পুরানো আধিপত্য বিস্তারে দ্বন্দ্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে টিটন কিলিং মিশনে অংশ নেয় বাদল, শাহজাহান, ভাইগ্না রনি, সানি, সুমন, প্রিন্স, লম্বু আলম ও পারভেজ। এদের মধ্যে দুই সদস্যের একটি টিম মোটরসাইকেলে টিটনকে অনুসরণ করে। নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটের কাছে তিন সদস্যের একটি টিম ছিল। আর সুলতানগঞ্জ এলাকার বাসা থেকে টিটন বের হওয়ার পর তাকে অনুসরণ করে আরেকটি টিম। নিউমার্কেটের বটতলার কাছে মোটরসাইকেলে অনুসরণ করা টিমটি টিটনকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

পূর্বের ঘটনা

পুলিশ আরো জানায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর বেলা পৌনে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সামনে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় পুলিশের এক সময়ের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তারিক সাঈফ মামুনকে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যার নেপথ্যে ছিল ১৯৯৯ সালে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় গাড়িতে ব্রাশফায়ার করে মোহাম্মদপুরের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ আহমেদের ভাই টিপু হত্যা। টিপু কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন, টিটন, লেদার লিটন ও মামুনসহ ৬ জন। একই সময়ে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অশ্রু এই ইমন বাহিনীর হাতে মর্মান্তিকভাবে খুন হন। এছাড়া গুলশানের ট্রাম্প ক্লাবে চলচ্চিত্র নায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করে ইমন বাহিনী।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একে একে কিলার আব্বাস, আরমান, ইমন, পিচ্চি হেলাল, টিটন, ফ্রিডম রাসুসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পেলে আবারও তারা বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। তারই জের ধরে টিটনকে হত্যা করা হতে পারে। এ দিকে বুধবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে ছোট ভাইয়ের লাশ বুঝে নেন বড় ভাই রিপন। এ সময় বছিলা গরুর হাট নিয়ে আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে টিটনের বিরোধের কথা সাংবাদিকদের বলেন তিনি। রিপন দাবি করেন, হত্যার শিকার হওয়ার কয়েক দিন আগে বছিলার গরুহাট নিয়ে হেলালের সঙ্গে বিরোধের কথা তাকে বলেছিলেন টিটন। তিনি বলেন, আমারে বলছে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বছিলার গরুর হাট নিয়ে ঝামেলা চলতেছে। একটু পরে আবার বলছে, না বড় ভাই, ওরকম কিছু না, ঠিক হয়ে যাবেনে, দোয়া কইরেন।