পটুয়াখালী জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে এক নারীসহ চারজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে বজ্রপাতে প্রায় ৫০টি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার জেলার কলাপাড়া উপজেলায় তিনজন এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয়
নিহত ব্যক্তিরা হলেন রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামের সৌরভ মজুমদার (২২), কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামের জহির উদ্দিন (২৮), পূর্বা চাকামাইয়া গ্রামের সেতারা বেগম (৫৫) এবং শান্তিপুর গ্রামের খালেক হাওলাদার (৫৫)।
সৌরভ মজুমদারের মৃত্যু
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা গ্রামে শাহ আলম মজুমদারের ছেলে সৌরভ মজুমদার গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন। পরে তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সৌরভের বাবা শাহ আলম মজুমদার জানান, তাঁর ছেলে এক সপ্তাহ আগে প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন। বুধবার সকালে গরুকে ঘাস খাওয়াতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বজ্রপাতে আহত হয়ে তিনি মারা যান।
কলাপাড়ায় তিনজনের মৃত্যু
কলাপাড়া উপজেলায় এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার তারিকাটা গ্রামের বাসিন্দা জহির উদ্দিন নিজ ভুট্টাখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান। একই দিন দুপুরে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামের বাসিন্দা সেতারা বেগম গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যান। একই সময়ে উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের খালেক হাওলাদার মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।
গবাদিপশুর মৃত্যু
একই দিনে বজ্রপাতে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ বলেন, বজ্রপাতে ২৩ জন খামারির মোট ২৯টি গবাদিপশু মারা যাওয়ার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। বাকিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার কালবৈশাখীতে তাঁর উপজেলায় এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫০টি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়।



