ছয় দাবি নিয়ে ঢাবি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ
ছয় দাবি নিয়ে ঢাবি রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের পদ থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে ১৮৭ জনের পদোন্নতি এবং চাকরির বয়স বৃদ্ধিসহ ছয়টি দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তাঁরা লিখিতভাবে এসব দাবি জানান। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

দাবিগুলো কী কী?

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সহকারী রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদ থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত ১৮৭ জনের পদোন্নতি আগামী ১৫ মের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের ২০২৫ সালের পদোন্নতির দরখাস্ত অবিলম্বে আহ্বান করতে হবে। এ ছাড়া সর্বস্তরের কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছর করার দাবি জানানো হয়।

তাঁদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বর্তমান পদোন্নতির নীতিমালায় আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে আরও সুবিধা বৃদ্ধি করা। ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রণীত নীতিমালা নিজ নিজ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংযোজন ও বিয়োজন করা। সংগঠনের নেতাদের অনুপস্থিতিতে কোনো ‘কালো নীতিমালা’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রহণ করবেন না বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে প্রশাসনিক ভবনের ক্যানটিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবিও জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি

আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়নে রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী ৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হয়ে দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না নিলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী থাকবে।

দাবিগুলো জানিয়ে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন), সহ-উপাচার্য (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরকেও স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকে তাঁরা তাঁদের দাবিদাওয়াগুলো উপস্থাপন করেছেন এবং একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সহকারী রেজিস্ট্রার থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে ওয়ান-থার্ড (এক-তৃতীয়াংশ) কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি তুলেছে, যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের ১৮৭ জনকেই পদোন্নতি দিতে হবে। তাঁরা বলছেন, অতীতে তাঁরা বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

কর্মকর্তাদের এই দাবির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যকে জানানো হবে উল্লেখ করে মুন্সী শামস উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।