বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল হিন্দুপাড়ার বাসিন্দারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা রাত জেগে লাঠি হাতে এলাকা পাহারা দিচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা সভা
আতঙ্ক দূর করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় শাবরুল হিন্দুপাড়ায় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সচেতনতামূলক সভা করেছেন শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল।
এলাকাবাসীর বক্তব্য
এলাকাবাসী জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে শাবরুল ছোট হিন্দুপাড়া ও বড় হিন্দুপাড়ায় চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা শাবরুল ছোট হিন্দুপাড়ায় নরেন্দ্রনাথ, নীল রতন ও বিধান চন্দ্রের বাড়িতে হানা দেয়। তারা এক বছরের জন্য মাছ চাষের পুকুর ছেড়ে দেয়ার দাবি জানায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসী জলিল সহযোগীদের নিয়ে পুকুর দখল করতে গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে শাবরুল ছোট হিন্দুপাড়ায় যান।
এ সময় হিন্দুপাড়ার বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করেন। এ সময় সাগর হোসেন (৩৫) নামে একজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন। এ ব্যাপারে বিজলী রানী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ১১ জনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশি পদক্ষেপ
ঘটনার পর শাজাহানপুর থানার পক্ষ থেকে শাবরুল হিন্দুপাড়ায় পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তারপরও আতঙ্কিত এলাকাবাসী গত দুই দিন যাবত রাত জেগে লাঠি হাতে এলাকা পাহারা দিচ্ছেন। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে গত সোমবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শাবরুল ছোট হিন্দুপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা করেন শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল।
সভায় বক্তারা
সভায় বক্তারা বলেন, শাবরুল এলাকা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এদের অত্যাচারে নিরীহ পরিবারগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। অসহায় মানুষকে রক্ষা করতে হলে শাবরুল বন্দরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে কমিটি গঠন করে লাঠি-বাঁশি কর্মসূচি চালু করতে হবে।
শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল জানান, যতদিন শাবরুল হিন্দুপাড়ার মানুষের আতঙ্ক না কাটবে ততদিন পুলিশি টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, শাবরুল এলাকায় সন্ত্রাসীদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। শাবরুলকে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত রাখতে থানা পুলিশ পাশে থাকবে। এছাড়া শাবরুলে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।



