গাজীপুরের টঙ্গীতে ঘর থেকে এক ছেলের এবং রেললাইনের পাশ থেকে বাবার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭) হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোহান টঙ্গীর বনমালা এলাকার বাসিন্দা সোহেল হোসেনের ছেলে। সে তার বাবা সোহেল রানা (৫২) ও ছোট ভাই সাকিব হোসেনকে (১৮) হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সোহানের আচরণ ছিল রহস্যজনক। সে পালিয়ে না গিয়ে স্বজনদের ফোন করে হত্যার বিষয়টি জানায়। এতে সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।
হত্যার কারণ
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি-ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সোহানের খালাতো বোনের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক ছিল। এর মধ্যে ওই খালাতো বোনের সঙ্গে ছোট ভাই সাকিবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানার পর দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। পরে রাতে ছোট ভাই ঘুমিয়ে পড়লে সোহান তার হাত-পা বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। এরপর ধারালো ব্লেড দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।
এ সময় পাশের ঘরে থাকা তাদের বাবা সোহেল রানা ঘটনাটি দেখে ফেলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সোহান এক সহযোগীকে নিয়ে বাবাকে ঘর থেকে বের করে বনমালা রেললাইনের পাশে বসিয়ে রেখে আসে। পরে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য
ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খালাতো বোনের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে বড় ভাই মানসিক চাপ, অপমানবোধ ও ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বাবাকে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গীর বনমালা এলাকার একটি ঘর থেকে সাকিবের এবং কাছের রেললাইন থেকে তার বাবা সোহেল রানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাকিব রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।



