ঢাকা-১৬ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেছেন, প্রত্যেকদিন অসংখ্য খুন এবং ধর্ষণ হচ্ছে। একজন সংসদ সদস্যের ওপরে হামলা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটা অবনতি হয়েছে যে ডাকসু নির্বাচিত সদস্যদের থানায় গিয়ে মব করে তাদের ওপরে হামলা করা হয়েছে।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিন রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনের ফসল এই সংসদ
আব্দুল বাতেন বলেন, আজকের এই সংসদ হচ্ছে জুলাই আন্দোলনের ফসল। যদি জুলাই আন্দোলন সফল না হতো তাহলে আমরা হয়তো এভাবে এই সংসদে বসতে পারতাম না। সেই জুলাই আন্দোলনের মধ্যে জনগণের কিছু সুস্পষ্ট দাবি ছিল। ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি।
ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ক্ষীণ
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরকারি দল ব্রুট মেজরিটি পেলো। এরপর থেকে দেশের মানুষ বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলো যে তাদের সেই ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতার হয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা যেসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা অপরিহার্য ছিল সেগুলোকে ল্যাপস করা হলো। যার ফলে মানুষকে এখন আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে সময় পার করতে হচ্ছে।
গুম-খুন অধ্যাদেশ বাতিলের প্রভাব
তিনি বলেন, গুম-খুন অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার কারণে এখন গুমের আতঙ্ক নিয়ে আমাদেরকে সমাজে বাস করতে হচ্ছে। আমাদেরকে এখন বিচারহীনতার মধ্যে বসবাস করতে হবে। মানবাধিকার বিহীন, নাগরিক অধিকার বিহীন একটি সমাজে বসবাস করতে হবে। এগুলো শুধু আশঙ্কার বিষয় নয়, আমরা যদি খবরের কাগজের পাতা উল্টাই তাহলে দেখবো, প্রত্যেকদিন অসংখ্য খুন এবং ধর্ষণ হচ্ছে। একজন সংসদ সদস্যের ওপরে হামলা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটা অবনতি হয়েছে যে ডাকসু নির্বাচিত সদস্যদেরকে থানায় যেয়ে মব করে তাদের ওপরে হামলা করা হয়েছে।
শিবির তরুণ-তরুণীর হৃদয়ের স্পন্দন
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, শিবির এখন বাংলাদেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর হৃদয়ের স্পন্দনের নাম। তাদেরকে খাটো করে দেখার কোনও সুযোগ নাই। সংসদ সদস্য শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী দু’দিন আগে সংসদে দাঁড়িয়ে ছাত্র সংগঠন নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ঠিক তার একদিন পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত সদস্যদের ওপরে হামলা হলো। আমরা এটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবো।



