ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (২৬ এপ্রিল) সংসদে তিনি এ দাবি তোলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্টুন শেয়ার প্রসঙ্গ
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে বিভিন্ন স্যাটায়ার ও মকারিকে প্রমোট করছেন এবং বিরোধী মতকে প্রমোট করছেন। কিন্তু সংসদ শুরু হওয়ার পর থেকে ৯টি ঘটনায় মত প্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আগেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু তা ছিল শুধু ‘সহমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এই সংসদের কাছে ‘দ্বিমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই, নির্ভয়ে ফেসবুকে লিখতে চাই এবং ‘ব্যাক পেজ’ ব্যবহার করতে চাই না। তবে আবার ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজকের সংসদ অনেক রক্ত, লড়াই ও ত্যাগের পর গঠিত হয়েছে, কিন্তু তা আবার ‘ভিসিয়াস সাইকেলে’ ফিরে যাচ্ছে। বিরোধী মত দমনের নামে মামলার সাইকেল চালু হয়েছে। ক্যাম্পাসগুলো আবার অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। অতীতে গেস্টরুম ও গণরুমের অপসংস্কৃতি দেখা গেছে, যেখানে ক্ষমতাসীন দলগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে বাধ্যতামূলক রাজনীতিতে বাধ্য করত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে।
মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গ
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের অর্ডিন্যান্স বাতিল করা হয়েছে এবং বলা হচ্ছে পুনর্বিবেচনা সাপেক্ষে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে অর্ডিন্যান্সটি গ্রহণ করেও পরবর্তীতে সংশোধন সম্ভব ছিল।
সমন্বিত কাজের আহ্বান
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের আশা-স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ভাষা ও কর্মসূচির মাধ্যমে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতিতে গেলে বিএনপি, এনসিপি বা জামায়াতে ইসলাম কেউ লাভবান হবে না; বরং জুলাইয়ে যাদের পরাজিত করা হয়েছে, তারাই লাভবান হবে।



