সুপ্রিম কোর্টের ভার্চুয়াল কোর্ট সিদ্ধান্তে আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদ
আজ বুধবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহে দুই দিন বিচারকাজ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ। তবে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা, যারা অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি তুলেছেন।
আইনজীবীদের আন্দোলন ও কর্মসূচি
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এম. মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন, যিনি বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে জানাবেন বলে আইনজীবীদের আশ্বস্ত করেছেন। পরে, সমিতির পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু বকর সিদ্দিকীকে জানানো হয়, যিনি প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ভার্চুয়াল কোর্টের ঘোষণা ও আইনজীবীদের যুক্তি
গত ১৯ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তিতে হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহে দুই দিন, বুধ ও বৃহস্পতিবার, বিচারকাজ ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০' এবং হাইকোর্ট বিভাগের প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগেও ভার্চুয়ালি বিচারকাজ পরিচালিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
আইনজীবীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, 'ইতিপূর্বে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনজীবী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেওয়া হতো। কিন্তু এবার ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার আগে আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।' তারা আরও যুক্তি দেন, 'সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলা হলেও, বিচারকরা এজলাসে বসে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করবেন, যেখানে লাইট, ফ্যান ও এসি চলবে। তাহলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে কীভাবে? আর সরকারও বলছে, দেশে কোনো জ্বালানি-সংকট নেই। এজন্য আমরা কোনোভাবেই ভার্চুয়াল কোর্ট চাই না, কারণ এটি মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।'
আন্দোলনের চূড়ান্ত ঘোষণা
সভায় আইনজীবীরা দাবি করেন যে, যদি এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি পেশ করবেন। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে করোনাকালে যখন পুরো বিশ্ব স্থবির ছিল, তখন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে বিচারকাজ ভার্চুয়ালি পরিচালিত হয়েছিল, সপ্তাহের কয়েকটি দিন এই মাধ্যমে বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হতো।
এই আন্দোলনটি সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং আইনজীবী সম্প্রদায়ের অধিকারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বন্দ্বের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।



