কক্সবাজারে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজারে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ মামলা

কক্সবাজারে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই মামলাটি করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলম। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে এবং নিম্নমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

আদালতে মামলা ও অভিযোগের বিবরণ

অধ্যাপক আখতার আলমের পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আখতার আলমের প্রাপ্য অর্থ ছাড়ের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি তলব করেছেন, যা এই অভিযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরছে।

জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া ও বিরোধী বক্তব্য

তবে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'অর্থছাড়ের বিপরীতে ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাদী আখতার আলমের সঙ্গে ছৈয়দ নুর নামের এক ব্যক্তির ভূমি অধিগ্রহণের টাকা নিয়ে একটি 'ডিজঅনার' মামলা রয়েছে। আদালত ছৈয়দ নুরকে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও আইনি জটিলতার কারণে সেই অর্থ সরাসরি আখতার আলমকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আদালতের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও ঘটনার ধারাবাহিকতা

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৯ সালে মহেশখালীর বাসিন্দা ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন আখতার আলম। পরে টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন এবং আদালত ছৈয়দ নুরকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। কিন্তু ছৈয়দ নুর টাকা দেননি। এরপর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ছৈয়দ নুরের নামে বরাদ্দ থাকা অর্থ থেকে পাওনা পরিশোধের আবেদন করা হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেন। তবে মামলার আসামিরা এই টাকা অধ্যাপক আখতার আলমকে ফেরত দেননি এবং উল্টো এই টাকার বিপরীতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাদীর বক্তব্য ও ন্যায়বিচারের দাবি

বাদী আখতার আলম জানান, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং এই মামলার মাধ্যমে সত্যতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।