পারিবারিক মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে সিআইডি
সিআইডি একটি পারিবারিক চক্রের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে, যেখানে বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই এবং এক পুত্রবধূসহ মোট ৭ জন অভিযুক্ত। এই চক্রটি অবৈধ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যারা মাদক কারবারের অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে জড়িত।
১৭ বছরে ৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য উদঘাটন
সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছরে এই চক্রটি নিজেদের ব্যাংক হিসাবে মোট ৫ কোটি ১৭ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা লেনদেন করেছে। অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সারাদেশের বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে, যা তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
অভিযুক্তদের পরিচয় ও কার্যক্রম
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্তরা হলেন মোসা. আসমা, রেশমা খাতুন এবং লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার নামীয় তিন সহোদরা বোন, যারা গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্য পিতা মো. আব্দুল আওয়াল, মোসা. আসমার স্বামী মো. মানিক মিয়া, লিজা বেগমের স্বামী কামাল উদ্দিন এবং তাদের সহোদর ভাইয়ের স্ত্রী জাহানারা বেগম (ভাবি) সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে ওঠে।
পারিবারিকভাবে চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা হলেও, এই তিন বোনের বিভিন্ন জেলাতে বিয়ে হয় এবং সবাই স্বামী, সন্তান ও পিতা-মাতাসহ সকলকে নিয়ে গাজীপুর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস করে। অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে অবৈধ মাদকদ্রব্য এনে নিজেরা অথবা স্থানীয় বহনকারীদের মাধ্যমে গাজীপুর জেলাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন, স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
মানিলন্ডারিং ও অর্থের ব্যবহার
অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে, অভিযুক্তদের কোনও বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তাদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তারা মানিলন্ডারিং করেছে, যা 'অবৈধ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা' হিসেবে মানিলন্ডারিং অপরাধের একটি সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
প্রাথমিকভাবে ৭৯ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, এবং অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ দিয়ে মাদক ক্রয় এবং নিজেদের ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
তদন্ত অব্যাহত
বর্তমানে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে, যা এই পারিবারিক চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উন্মোচনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



