অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কাছ থেকে ৫৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কাছ থেকে ৫৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্র গ্রেফতার

অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কাছ থেকে ৫৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

প্রথমে চাকরি ও পরে ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রলোভন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের চার সদস্য সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছে। রবিবার রাতে তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি চৌকশ দল।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন:

  • মো. তোফায়েল হোসেন ওরফে রতন (৬৮ বছর)
  • মো. লিটন মুন্সী (৬০ বছর)
  • মো. বাবুল হোসেন (৫৫ বছর)
  • মো. নুরুল ইসলাম (৩৯ বছর)

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কার্যে ব্যবহৃত নিম্নলিখিত আলামত জব্দ করা হয়:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ৯টি মোবাইল ফোন
  • ১২টি সিম কার্ড
  • ৫টি মানি রিসিপ্ট
  • ২টি ভিন্ন ভিন্ন বিলের কাগজ
  • বিদেশি মুদ্রা

সিআইডি মিডিয়া বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিচালনা করছে।

প্রতারণার কৌশল

সিআইডি জানায়, এই চক্রটি প্রথমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের রাজধানীর মিরপুরের একটি ভুয়া অফিসে নিয়ে যেত। এরপর ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেওয়া হতো, এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ শতাংশ লাভসহ মূলধন ফিরিয়ে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি করা হতো।

২০২৪ সালে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা থেকে পিআরএলে থাকা ভুক্তভোগীকে অক্টোবর মাসে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে কল করে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি অফিসে গেলে জীবনবৃত্তান্ত পরীক্ষা করে চাকরি নিশ্চিত করা হয়। নভেম্বর মাসে তাকে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং মৌখিক চুক্তি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর প্রতারক চক্র ধাপে ধাপে ৫৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এক সপ্তাহ পর টাকা ফেরত চাইলে তারা টালবাহানা শুরু করে এবং আরও অর্থ বিনিয়োগের চাপ দিতে থাকে। এতে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং পল্লবী থানায় মামলা করেন।

চক্রের কার্যক্রম ও তদন্ত

তদন্তে জানা যায়, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা চালাচ্ছিল। তারা মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় অফিস ভাড়া নিয়ে সুকৌশলে এই কার্যক্রম পরিচালনা করত।

গ্রেফতারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিআইডি জানায়, অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সতর্কতা

সিআইডি সর্বসাধারণকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছে। অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের আগে সত্যতা যাচাই এবং অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন কলের মাধ্যমে চাকরি বা ব্যবসায়িক প্রস্তাব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।