স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্টের এক বছরের কারাদণ্ড
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি যৌতুক ও মারধরের মামলায় ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট নাজিম উদ্দিনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারক মোশতাক আহমেদ আজ সোমবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন। নাজিম উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার পটভূমি ও বিবরণ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নাজিম উদ্দিন ২০০৪ সালের ৯ জানুয়ারি আশরেফা জাহানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে এবং চট্টগ্রাম নগরের জামাল খান এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে যে, নাজিম উদ্দিন ফ্ল্যাট কিনতে স্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় ২০২০ সালের মার্চ ও জুন মাসের বিভিন্ন তারিখে তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট আশরেফা জাহান আদালতে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় এবং মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর বিচারক রায় দেন। সরকারি কৌঁসুলি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস জানান, আদালত আসামি নাজিম উদ্দিনকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
রায় ও পরবর্তী অবস্থা
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং আপিল করার শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মামলা চলাকালে নাজিম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে বলে কৌঁসুলি নিশ্চিত করেছেন। নাজিম উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এবং আশরেফা জাহানের বাড়ি লালমনিরহাটে অবস্থিত।
এই মামলাটি নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে।



