কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত যুগিয়া বালু মহালের দখল নিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন। এসময় ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হয়েছেন আরও দুজন। সোমবার (১ জুন) এ গুলিবর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবীর হোসেন মাতুব্বর। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে রোববার দিবাগত রাতে গোলাগুলির এই ঘটনাটি ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধরা হলেন- ট্রাক চালক ফিরোজ (৪৫) ও শ্রমিক সবুজ (৩০)। অন্যদিকে ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত অপর দুজন হলেন বালু শ্রমিক মিলন (৩৫) ও বাবলা (৪০)। আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে ১০/১৫ জনের অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল যুগিয়া বালু মহালে এসে অতর্কিত ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বালু মহালে সন্ত্রাসীদের ১০/১৫ রাউন্ড ছোড়া গুলিতে ট্রাক চালক ফিরোজ (৪৫) ও বালু শ্রমিক সবুজ (৩০) পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা বালু মহালের শ্রমিক বাবলা (৪২) ও মিলনকে (৩৮) ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের বক্তব্য
হাসপাতালে ভর্তি গুলিবিদ্ধ ট্রাক চালক ফিরোজ জানান, ১০/১৫ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপ বালু মহালে এসে অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ ও অপর দুইজন ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত হন। কে বা কারা এই হামলা-গুলি চালিয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারে নি। তবে হামলাকারীরা প্রত্যেকে মুখোশধারী ছিল বলে তিনি জানান।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে যুগিয়া বালু মহালটিতে একই কায়দায় সন্ত্রাসীরা ১৫/২০ রাউন্ড অতর্কিত ফাঁকা গুলি ছুড়েছিল। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটে নি। সে সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পুলিশ শটগানের অব্যবহৃত দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও দুইটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছিল। কিন্তু ওই ঘটনার আজও হয়নি কূল-কিনারা।
পুলিশের ধারণা
বালু মহালটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সন্ত্রাসীরা বার বার গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে পুলিশের ধারণা। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবীর হোসেন মাতুব্বর জানান, গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



