বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও ভোলার কৃতি সন্তান তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে তার জন্মস্থান দ্বীপ জেলা ভোলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সোমবার বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর মুহূর্তে ভোলায় ছড়িয়ে পড়লে শোকাহত হন দলীয় নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। রাজনীতির মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন দলের নেতাদের শোক
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন ভোলার মানুষ একজন অভিভাবক হারিয়েছেন। তিনি কৃতী মানুষ ছিলেন। দলের বাইরে সামাজিক সম্পর্ক অটুট রাখতে চাইতেন তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ওই সম্পর্ক ছিল বলেও জানান বিএনপির সিনিয়র এই নেতা।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম জানান, তিনি চান তোফায়েল আহমেদের জানাজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জেলার বৃহত্তর মাঠ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার মৃত্যুতে তিনিও ব্যক্তিগতভাবে শোক জানান।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ জানান, তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো কালে পূরণ হবে কিনা তিনি জানেন না। তিনি অভিভাবক হিসেবে ভোলার মানুষের কাছে ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানানোর পাশাপাশি রুহের মাগফিরাত কামনা করেন বিজিপির ওই নেতা।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম জানান, একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে তিনিও গভীর শোক প্রকাশ করেন। তার ভালো কাজগুলো আল্লাহ যেন কবুল করে নেন। ভালো কাজের জন্য তার জান্নাতবাস কামনা করেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।
জীবন ও জানাজা
তোফায়েল আহমেদ ভোলা জেলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল কাজি জানান, তিনি খুবই ব্যথিত। একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠককে হারালেন। তার গ্রামের বাড়ির মসজিদ চত্বরে জানাজা, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সব কার্যক্রম সম্পন্ন হতে তিনি সম্পৃক্ত থাকবেন বলেও জানান। ইতোপূর্বে তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদের জানাজায় অংশগ্রহণসহ দাফন পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন রাজনীতির মতপার্থক্য থাকতে পারে। তোফায়েল আহমেদ ভোলার সন্তান হিসেবে তারাও গর্বিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে সবাই শোক জানিয়েছেন।
তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা খায়রুল হাসান খোকন জানান, মঙ্গলবার বাদজোহর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর গ্রামের বাড়ির চত্বরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজ ও স্কুলের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষকরা। শোক জানান আজাহার-ফাতেমা হাসপাতালের স্টাফ, ফাতেমা খানম জামে মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকরা।



