তিনটি হত্যা মামলার আসামি সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল লতিফ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
পরিবারের অভিযোগ
তবে তার মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার কারণে একটি ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা’ মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সময়মতো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় অবশেষে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আইনজীবী সমিতির শোক
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ আইন অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তারা।
কারাগারের দাবি
অন্যদিকে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বন্দি অবস্থায় অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফকে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই তার সার্বিক দেখভাল করা হচ্ছিল এবং এখানে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না বলেও জানিয়েছে তারা। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেফতারের ঘটনা
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে তাকে ও তার ছেলে রাসেলকে আটক করা হয়। এর পর থেকে তিনি তিনটি হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন।
মৃত্যুর সময়
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।



