পাবনায় আদালত কক্ষের ভেতরেই এক আসামি অপর আসামিকে মাদক সরবরাহ করার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্ন করে দুই আসামিকেই কারাদণ্ড দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমান।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (২০ মে) দুপুরে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সপ্তম তলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের এজলাসে এই ঘটনা ঘটে। আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আসা আসামি মো. তুর্য ইসলাম আশিফ আদালতের কাঠগড়ায় দস্যুতা মামলায় হাজতে থাকা আরেক আসামি মো. সুজন আহমেদ রনির কাছে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছিলেন।
উপস্থিত আইনজীবী ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উভয়কে তল্লাশি করেন। তল্লাশি চালিয়ে আশিফের কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা এবং রনির কাছ থেকে চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিচার ও দণ্ড
পরে কোর্ট পুলিশের সিএসআই জব্দ তালিকাসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আদালত মো. তুর্য ইসলাম আশিফকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং মো. সুজন আহমেদ রনিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
প্রতিক্রিয়া
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল বলেন, আদালত কক্ষে মাদক সরবরাহের মতো ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এতে অনুমান করা যায়, মাদকদ্রব্য কতদূর পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি ক্ষুদ্র হলেও স্পষ্ট অপরাধে দ্রুতবিচার ও দণ্ড কার্যকর হলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে তা কার্যকর প্রতিরোধমূলক বার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং আদালত প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে।



