চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১১ বছরের শিশু আফরিন আক্তার নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. ফয়সালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি ফয়সালকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ বিচারক মো. লোকমান হাকিমের আদালতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। আদালতে তিনি ধর্ষণের পর শিশু আফরিনকে হত্যার বর্ণনা দেন।
১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ফয়সাল বলেন, নির্জন তুলার গুদামে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে তার বন্ধু ধর্ষণ করতে চাইলে শিশুটি চিৎকার করে। তখন তিনি ও তার বন্ধু মিলে তাকে হত্যা করে। পরে ধারাল ছুরি ও ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মুখমণ্ডল বিকৃত করে ফেলে এবং বাম চোখ উপড়ে ফেলে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী মডেল থানার এসআই রূপম নাথ। এর আগে বুধবার (২০ মে) বিকালে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন নিলক্ষা ইউনিয়নের টংকপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার আসামির পরিচয়
গ্রেফতার মো. ফয়সাল (১৯) পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ফরাজি বাড়ি এলাকার মো. মোস্তফার পুত্র। তবে তিনি ৫-৭ বছর ধরে তার পরিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন শুভপুর হাজীরপাড়া কাদৈর বাড়িতে (নানার বাড়ি) বসবাস করে। তবে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আমান বাজারের পূর্বপাশে ব্রিক ফিল্ডসংলগ্ন ইসহাক কলোনিতে ভাড়াবাসায় মো. মুজিবুল্লাহ চৌধুরীর গরু চড়াতেন ফয়সাল।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৬ মার্চ উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের আমান বাজারের পূর্বপাশে ইসহাক কলোনির মাদ্রাসাছাত্রী নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর আল আমিন নামে এক ব্যক্তির গোডাউনে মাদ্রাসাছাত্রীর হাত-পা বাঁধা ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে ঘটনার তদন্তে নেমে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, অভিযুক্ত ফয়সাল কৌশলে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ওই নির্জন তুলার গুদামে নিয়ে যায় এবং এর কিছু সময় পর সে একাই সেখান থেকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে আসে। এ ঘটনার পরদিন ২৯ মার্চ হাটহাজারী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিহতের মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান এজাহারনামীয় আসামি ছিল ফয়সাল।
পুলিশের বক্তব্য
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ বলেন, গ্রেফতারের পর ফয়সাল শিশু আফরিনকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার কথা আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেন। এর আগে তিনি গ্রেফতার এড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির গহিন পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। সেখানে প্রায় দেড় মাস অবস্থান করে কিছুদিন আগে কুমিল্লায় ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। পরে নরসিংদীতে পালিয়ে গেলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।



