পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উত্তরবঙ্গবাসীকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে: ফারাক্কা চুক্তি, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। সরকার গঠনের মাত্র তিন মাস হয়েছে, তাই বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ফারাক্কা চুক্তি
সোমবার দুপুরে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ কবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একনেকে পদ্মা ব্যারেজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে, ইনশাআল্লাহ তিস্তার জন্যও হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ধৈর্য ধরতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
ফারাক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১১ ডিসেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তারা চুক্তিটি পুনরায় বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের করা চুক্তিটি সবচেয়ে সময়োপযোগী ছিল, সেই আলোকে নতুন চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা চলছে।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এই আয়োজন সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার মহৎ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী চান তৃণমূল থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করুক।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহ দেখালে তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। খেলোয়াড় হয়েও তারা দেশ ও এলাকার জন্য সুনাম অর্জন করতে পারে।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তব্য
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন, পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।
অতিথিরা বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে হবে। ক্ষুদে অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ প্রতিযোগিতায় রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলার বিজয়ী দলগুলো অংশ নিচ্ছে। ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দাবা, কাবাডি, মার্শাল আর্ট, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতার।



