ময়মনসিংহে মেয়ে হত্যার পর তা আত্মহত্যা বলে প্রচারের অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত মেয়ের মা সালমা আক্তার প্রীতি দাবি করেন, গত ২৪ এপ্রিল ঢাকার উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে তার মেয়ে আমেনা আক্তার নওরীনকে হত্যা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যার পর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সালমা আক্তার প্রীতি জানান, ২০২২ সালে ময়মনসিংহ সদরের কুষ্টিয়া নামাপাড়া এলাকার লুৎফুল্লাহিল কবির আশিকের সঙ্গে নওরীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। পরে আশিক চাকরির সুবাদে ঢাকা উত্তরায় ভাড়া বাসায় ওঠে এবং নওরীন শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিছুদিন পর আশিকের অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ হলে নওরীন জানতে পারেন যে আশিক অফিসের এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত। এতে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং আশিক মাঝে মাঝে নওরীনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
ঘটনার দিনের বিবরণ
সালমা আক্তার প্রীতি বলেন, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আশিক ফোন করে জানায়, নওরীন ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা নওরীনের নিথর দেহ বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, কিন্তু আত্মহত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফ্যানেও কোনো দাগ, রশি বা ঝুলন্ত অবস্থার চিহ্ন ছিল না। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে নওরীনকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে সাজানোর চেষ্টা হয়েছে। ঘটনার রাতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ উপস্থিত অনেকেই প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেন।
মামলা ও জামিনের প্রসঙ্গ
এ ঘটনায় উত্তরা তুরাগ থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা হলে ২৪ এপ্রিল আশিককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তবে ১৯ দিনের মধ্যেই আশিক ক্ষমতার প্রভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নওরীনের মা। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের কাছে রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দাবি করেন তিনি।
তদন্তকারীর বক্তব্য
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুরাগ থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এখনো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকির ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



