জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী থানায় গুলি খারিজের ঘটনায় এসআইয়ের জবানবন্দি
গুলিবর্ষণ খারিজের অভিযোগে এসআইয়ের জবানবন্দি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ী থানায় বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সরবরাহ করা গুলি অন্যদের নামে খারিজ দেখানোর ঘটনায় জবানবন্দি দিয়েছেন তৎকালীন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুকদেব কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান তাঁকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান ও তৎকালীন ডিসি ইকবালের নির্দেশে তাঁদের নামে গুলি খারিজ দেখানো হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় শহীদ ইমাম হাসান তাইমকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৫তম সাক্ষী হিসেবে আজ রোববার জবানবন্দিতে এসআই সুকদেব কুমার এ কথা বলেন। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।

জবানবন্দিতে সুকদেব আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৮, ১৯ ও ২০ জুলাই রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ডেমরা পুলিশ লাইনস, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়নের মতো বিভিন্ন ইউনিটের ৩০০ থেকে ৪০০ ফোর্স যাত্রাবাড়ী থানায় প্রতিদিন নিয়োজিত থাকতেন। তৎকালীন ডিসি ইকবাল, এডিসি শামীম, এডিসি মনির ও ওসি হাসান থানায় আসা ফোর্সদের ব্রিফিং করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে সেই ফোর্সদের মোতায়েন করা হতো। যাত্রাবাড়ী থানা অস্ত্রাগার থেকে গুলি নিয়ে সেই ফোর্সদের দিয়ে আন্দোলনকারীদের দমনে গুলি করানো হতো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুলিবর্ষণ খারিজের অভিযোগ

২০২৪ সালের ২৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় অবস্থানের সময় জানতে পারেন বিভিন্ন ইউনিট থেকে আসা ফোর্সদের সরবরাহ করা গুলি ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে সেসব গুলি তিনিসহ অন্যদের নামে খারিজ দেখানো হয়েছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এসআই সুকদেব কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, অস্ত্রাগারের ইনচার্জ এসআই মেজবাহকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ওসি হাসান ও ডিসি ইকবাল এই গুলি খারিজ দেখাচ্ছেন। তিনি ওসি হাসানকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘স্যার আমিসহ যারা গুলি নিই নাই বা গুলি করি নাই তাদের নামে কেন গুলি খারিজ দেখাচ্ছেন?’ ওসি হাসান ধমক দিয়ে বলেন, ‘কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিসি ইকবাল স্যারের নির্দেশে খারিজ দেখানো হচ্ছে।’ এ বিষয়ে সেদিন তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অনলাইন জিডি করেন।

মামলার আসামি ও বর্তমান অবস্থা

এই মামলায় মোট ১১ জন আসামি। তাঁদের মধ্যে ৯ জন পলাতক। তাঁরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক ও সাবেক এসআই সাজ্জাদ উজ জামান।

কারাগারে থাকা দুই আসামি হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।