গণিত শিক্ষক ইংরেজির প্রধান পরীক্ষক, শারীরিক শিক্ষক বাংলার
গণিত শিক্ষক ইংরেজির প্রধান পরীক্ষক, শারীরিক শিক্ষক বাংলার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাপিলাতুলি এলাকায় অবস্থিত কাপিলাতুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে (কেএসপি) এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। রিয়াজ উদ্দিন নামের এক শিক্ষক গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং গণিত বিষয়েই এমপিওভুক্ত হয়ে শিক্ষকতা করছেন। তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এবার তিনি ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন। অন্যদিকে, ওমর ফারুক নামের আরেক শিক্ষক শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং শারীরিক শিক্ষা বিষয়েই এমপিওভুক্ত। তিনি প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন বাংলা দ্বিতীয় পত্রের।

বিব্রতকর অবস্থায় অন্যান্য শিক্ষক

এই ঘটনায় বিব্রত বোধ করছেন অন্য বিষয়ের পরীক্ষকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণিতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। এতে গণিতের মূল শিক্ষকরা বিব্রত হন।

অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

শিক্ষকরা বলছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানপ্রধান হওয়ার সুবিধা নিয়ে প্রধান পরীক্ষক হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ই-টিআইএফ ফরমে তিনি গণিতের শিক্ষক হিসেবে তথ্য দিয়েছেন। এই তথ্য যাচাই করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানপ্রধানের। কিন্তু তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানপ্রধান, তাই কে তার তথ্য যাচাই করবে? অপরদিকে, ওমর ফারুক রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের সহযোগিতা নিয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রধান পরীক্ষক হতে পেরেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য

গণিতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়ে কীভাবে ইংরেজি বিষয়ের প্রধান পরীক্ষক হলেন জানতে চাইলে রিয়াজ উদ্দিন নিজেকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৭ বছর শিক্ষকতা করছি। ২০১৭ সাল থেকে খাতা দেখি। আমাদের সময় এসব (সাবজেক্ট নির্ধারণ) কোনও বিষয় ছিল না। ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হই। তখন সাবজেক্টের নাম ছিল না। পরে আমাদের সমন্বয় করা হয়েছে। যারা প্রতিষ্ঠানে যে বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন, তারাই ওই বিষয়ে পরীক্ষক হতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করালেই ওই বিষয়ের পরীক্ষক হওয়া যায়। বোর্ডের নিয়মেও বলা হয়। তাছাড়া সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসব ঘটনা ঘটছে।’

শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবীর উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের যে প্রোগ্রামিংটা করা হয়ে থাকে তা অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ঠিক করে দেন কে পরীক্ষক হবেন। এটা যদি হয়ে থাকে, সেজন্য শিক্ষা বোর্ড দায়ী নয়। যদি কেউ এমন অনিয়ম করে থাকেন, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালো তালিকাভুক্ত পরীক্ষক

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ইংরেজি পরীক্ষক প্রায় ৪০০ জন। এর মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ১৪৫ জন। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষক প্রায় ২৬৫ জন। এর মধ্যে প্রধান পরীক্ষক ৯৬ জন। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বহীনতার কারণে ইংরেজিতে তিন জন ও বাংলা দ্বিতীয় পত্রের একজন পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চার শিক্ষককে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।