বিমানবন্দরে যানবাহন ট্র্যাকিং সিস্টেম বাস্তবায়নে বেবিচকের দ্বিতীয় দফা নির্দেশনা
বিমানবন্দরে যানবাহন ট্র্যাকিং সিস্টেম বাস্তবায়নে বেবিচকের নির্দেশনা

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও সেবা সংস্থার যানবাহনে বাধ্যতামূলক ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনের নির্দেশনা জোরদার করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের আবারও সতর্ক করে দ্বিতীয় দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ভিটিএস বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা

বেবিচক জানায়, বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও এপ্রোন এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনের অবস্থান, গতি ও গতিপথ কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ভিটিএস স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথম দফায় গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও অধিকাংশ সংস্থাই তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, ভিটিএস না থাকার কারণে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অপারেটরদেরই দায় বহন করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেবিচকের বক্তব্য

বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, বিশ্বের উন্নত বিমানবন্দরগুলোতে এ ধরনের প্রযুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিটিএস চালু হলে এয়ারসাইডে চলাচলকারী সব অনুমোদিত যানবাহনের অবস্থান ও গতিবিধি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় অনেক যানবাহনের চলাচল যথাযথভাবে মনিটর করা যাচ্ছে না। ভিটিএস চালু হলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রতিটি যানবাহনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে এবং কোনো যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক সংকেত দেওয়া যাবে। এতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষজ্ঞ মতামত

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও এপ্রোনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় প্রতিটি যানবাহনকে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা মান অনুযায়ী আধুনিক বিমানবন্দরে এ ধরনের ব্যবস্থা অপরিহার্য। গ্রাউন্ড সাপোর্ট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে, তাই তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।

ভিটিএস স্থাপনের অগ্রগতি

বেবিচক সূত্র জানায়, এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান, কার্গো অপারেটর, ক্যাটারিং সেবা সংস্থা এবং বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তাদের ব্যবহৃত যানবাহনে ভিটিএস স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিএনএস-এটিএম ব্যবস্থার আওতায় এয়ারসাইড ও এপ্রোন এলাকার যানবাহনকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি যানবাহনের অবস্থান, গতি ও চলাচলের রুট তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দেখা যাবে। নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুতি বা অননুমোদিত এলাকায় প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা প্রদান সম্ভব হবে।

বেবিচক কর্মকর্তারা বলেন, ভিটিএস চালু হলে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অপারেশন আরও নিরাপদ হবে এবং বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে। তবে প্রযুক্তি স্থাপন করলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের যানবাহনকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অবস্থান

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম দাবি করেন, তাদের যানবাহনে এই সিস্টেম ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি এপ্রোনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কার্যকর রয়েছে।