রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল, পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং কারাবন্দী সদস্যদের মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন করে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১ জুলাই সারা দেশের চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শাহবাগে মানববন্ধন
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত এই মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে সংগঠনের নেতারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরপরাধ সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান।
সংগঠনের মুখপাত্রের বক্তব্য
মানববন্ধনে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের মুখপাত্র সাইদ আহমদ খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, পিলখানার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত অসংখ্য নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে গণহারে গ্রেফতার ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সাজানো তদন্ত ও মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অনেক সদস্য দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কারাভোগ করছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক পরিবার কর্মসংস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ হারিয়েছে। চিকিৎসার অভাবে বহু সদস্য মারা গেছেন। আমরা রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসন চাই।
দুই দফা দাবি
মানববন্ধনে দুই দফা দাবি জানিয়েছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ। সেগুলো হলো- চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল ও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং মিথ্যা মামলায় দণ্ডিত নিরপরাধ সদস্যদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া।
সংগঠনের সভাপতির বক্তব্য
মানবন্ধনে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. ফয়জুল আলম বলেন, পিলখানার ভেতরে ও বাইরে হাজার হাজার বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে চাকরি ফেরত চাই, নিরপরাধ জেলবন্দীদের মুক্তি চাই।
তিনি আরও বলেন, ''বেগম খালেদা জিয়া পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের কথা বলেছিলেন। আজ তার দল সরকারে থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আমরা তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানাই, বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে চাকরি পুনর্বহালের ব্যবস্থা করুন।''



