মাঠ ও মাঠের বাইরে বাজে সময় পার করছে রিয়াল মাদ্রিদ। লিগ শিরোপা আগেই হাতছাড়া হয়েছে লস ব্লাঙ্কোদের। এর মধ্যে নতুন দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়ার মধ্যে। যা নিয়ে পাল্টা-পাল্টি মন্তব্য করেছেন এমবাপ্পে ও আরবেলোয়া।
এমবাপ্পের দুয়ো ও বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচের ৬৯ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঠে নামেন এমবাপ্পে। ঊরুর চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্ট্রাইকারকে দুয়ো দেয় রিয়াল সমর্থকরা। ২-০ গোলে জয়ের পর এমবাপ্পে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুয়ো...এটাই জীবন। মানুষ ক্ষুব্ধ থাকলে তাদের মতামত পাল্টানো কঠিন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়ের জীবনে এটা মেনে নিতেই হবে।’
এরপর চোখ কপালে তোলার মত তথ্য দেন এমবাপ্পে। রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়ার কাছে তিনি চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। এমবাপ্পে বলেন, ‘ভালো আছি, শতভাগ প্রস্তুত। (একাদশে) খেলতে পারিনি; কারণ, কোচ আমাকে জানিয়েছেন, তার কাছে আমি দলের চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। আমি মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গঞ্জালো থেকে পিছিয়ে। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু খেলার সময় পেয়েছি খেলেছি। সম্ভবত ভালোই খেলেছি।’
রিয়ালের একাদশে ফেরার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘একাদশের হয়ে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তবে আমি কোচের ওপর রাগান্বিত নই। সব সময় কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হয়। আমি একাদশে ফেরার চেষ্টা করবো।’
আরবেলোয়ার প্রতিক্রিয়া
তবে এমবাপ্পে এই মন্তব্য অস্বীকার করেছেন রিয়াল কোচ আরবেলোয়া। ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার যদি চারজন ফরোয়ার্ড থাকতো! আমার তো চারজন ফরোয়ার্ডই নেই। আর আমি এমবাপ্পেকে এমন কিছু কখনোই বলিনি। হতে পারে সে আমার কথা ভুল বুঝেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে “চতুর্থ পছন্দের” ফরোয়ার্ড বলতে পারি না।’
রিয়াল কোচ আরও বলেন, ‘আমি কোচ, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। ম্যাচের আগে তার (এমবাপ্পে) সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে সেটা কীভাবে নিয়েছে, আমি জানি না। যে খেলোয়াড় চার দিন আগেও বেঞ্চে বসার মতো অবস্থায় ছিল না, আজ (কাল রাতে) তার একাদশে থাকা উচিত নয়। এটা ফাইনাল বা বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না যে তাকে নামাতেই হবে। কারও সঙ্গেই আমার কোনো বিরোধ নেই।’
আরবেলোয়া বলেন, ‘এমবাপ্পে খেলতে না পেরে অখুশি, তা আমি বুঝতে পারছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক ও স্বাভাবিক কাজ।’



