চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মাদ্রাসার সুপারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৩ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিচয়
নিহত মাওলানা আবুল কাশেম (৫২) চরম্বা জামিউল উলুম মাদ্রাসার সুপার ছিলেন। তিনি চরম্বা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। একই ঘটনায় আরও তিন জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সামছুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়।
হামলার ভিডিও
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিন জন ব্যক্তি কথা বলার সময় আরেকজন পেছন থেকে গিয়ে অতর্কিতভাবে আবুল কাশেমের ওপর হামলা করেন। পরে হাতাহাতির মধ্যে একজন লাঠি দিয়ে আবুল কাশেমের মাথায় আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হাসপাতালে মৃত্যু
এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- সখিনা খাতুন (৫৫), মো. হারুন রশিদ (৪০) ও শাহ আলম (৩৭)। এর মধ্যে সখিনা খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং মো. হারুন রশিদ ও শাহ আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকের বক্তব্য
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এজাজুল ইসলাম শিহাব বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় চার জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে আবুল কাশেমকে হাসপাতালে আনার আগে মারা যান। বাকি তিন জনের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশের বক্তব্য
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। বাকিদের গ্রেফতার করা হবে।’



