দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানায় করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ জুলাই পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
শুনানির সময় যা বললেন লতিফ সিদ্দিকী
শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। এ সময় বিচারককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “এভাবে বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না। ছয় মাস আগে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আজ আদেশ দিলেন। আমি আদালতে আসবো, হাজিরা দেবো। আমাদের আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।” জবাবে বিচারক বলেন, “সেটা আপনার ইচ্ছা। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।”
আইনজীবীর বক্তব্য
লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি সশরীরে হাজিরা দিতে চান।
আগের ঘটনা
এর আগে গত ১৬ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন লতিফ সিদ্দিকী। তবে সেদিন মূল নথি না থাকায় শুনানি হয়নি। পরে বুধবার এ বিষয়ে আদেশ দেন আদালত। আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তাধীন এবং লতিফ সিদ্দিকী একজন বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তি। চলাফেরায় সমস্যা থাকায় এবং তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট এ মামলায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন-সহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দেন।
মামলার এজাহারের বক্তব্য
মামলার এজাহারে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে গত ৫ আগস্ট “মঞ্চ ৭১” নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সময় একদল ব্যক্তি স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং কয়েকজন অংশগ্রহণকারীকে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম নামের এক উপপরিদর্শক সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
অন্যান্য আসামি
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহাম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।



