কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ তিন মহানগর ও তিন জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) ৯ দিনের জন্য বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
৯ দিনের জন্য বলবৎ সিদ্ধান্ত
আজ সোমবার থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এলাকাগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অধীন অপরাধগুলো আমলে নিতে পারবেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
সেনা মোতায়েনের পটভূমি
এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে তিন মহানগর এলাকা ও তিন জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ বিষয়ে আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সেনা মোতায়েনের এলাকা ও সময়সীমা
চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় ৯ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়। ২২ থেকে ৩০ জুন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা কাজ করবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সরকারি উদ্বেগ
২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দিনটি সামনে রেখে দলটি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করতে পারে, যা বেআইনি। এরপর বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।



