ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ৯ নম্বর শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে ভূমি হস্তান্তর করের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ৯ জন ইউপি সদস্য। তারা একযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন, যেখানে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা আবেদনে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, ভূমি হস্তান্তর কর বাবদ আদায়কৃত ১ শতাংশ হারের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিষদের কোনো রেজুলেশন বা অনুমোদন ছাড়াই উত্তোলন করা হয়েছে। এই অর্থ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নবীনগর শাখায় ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব থেকে একাধিক চেকের মাধ্যমে তোলা হলেও বিষয়টি পরিষদের সদস্যদের অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়।
সদস্যদের বক্তব্য
আবেদনকারী সদস্য ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া বলেন, চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে ভূমি হস্তান্তর করের অর্থের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুতর। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান এম আর মজিব বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, ৩৫ লাখ টাকা নয়, সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকতে পারে এবং সেই অর্থ ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের অবস্থান
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, আবেদনটি এখনো হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।



