স্ত্রী আফরা ইভা (ইকরা) খানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর (নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এই তথ্য প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড শুনানির বিবরণ
রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা এই মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য আজ জাহের আলভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। ২১ জুন আবেদনটি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আব্দুল মালেক। সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের দিন (বুধবার) ধার্য করেছিলেন। সে অনুযায়ী আজ শুনানি শেষে আদেশ দেন আদালত।
রিমান্ডের কারণ
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জাহের আলভী তাঁর স্ত্রী ইকরাকে উদ্দেশ করে ফেসবুকে অপমানজনক, উস্কানিমূলক ও মানসিক নির্যাতনমূলক বিভিন্ন বক্তব্য পোস্ট করতেন। বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি দিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য পোস্ট করেন। মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
আলভীর বক্তব্য
শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন আলভী। তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি, শোক পালন করব, নাকি কী করব, বুঝতে পারছি না। আমরা দুজনে ম্যাচিউর। প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমাদের বিয়ের পর খুঁনসুটি ছিল, অভিমান ছিল, ঝগড়া ছিল। এমন কিছু ঘটেনি যে, ইকরা আত্মহত্যা করবে।’
পূর্বের ঘটনা
১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন জাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত নিথরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সে সময় জাহের আলভী নেপালে ছিলেন।
সেদিন রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় জাহের আলভীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয় মামলায়।
এ মামলায় ৪ জুন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের একজন ছেলে সন্তান আছে।



