আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে ৪৪ জন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন ও আইন সংশোধন
মন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”
পলাতক আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ
আইনমন্ত্রী জানান, “পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর বিধি ৪৩ এবং বিধি ৪৫সি অনুযায়ী ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সরকারি খরচে ৪৪ জন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে শুধু তাদের বিচার নিষ্পত্তি করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার প্রক্রিয়া
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার অত্র সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ পাস করেছে। ওই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচারকার্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।”
ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ভার্চুয়াল শুনানি
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংশোধনীতে বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, সাক্ষ্য হিসেবে ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং মামলার যেকোনও পর্যায়ে অ্যাডিশনাল উইটনেসেস এবং ফার্দার এভিডেন্স উপস্থাপনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম যাতে অযথা বিলম্বিত না হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হলেও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে।
সম্পদ ফ্রিজ ও আসামির অধিকার
এছাড়া পলাতক হওয়ার মাধ্যমে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে, আসামির দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার অধিকার, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রাপ্তি এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে সরকারি খরচে আসামিপক্ষে দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং ভুক্তভোগীদের বিচারকার্যে অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার জন্য পৃথক বিধান সংযোজন করা হয়েছে।”
সংসদে প্রশ্নোত্তর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার প্রশ্নটি করেন। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।



