চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের যুগান্তকারী মধ্যস্থতায় আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর গ্রামে ২৫ বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছে। শনিবার (২১ জুন) রাতে আলমডাঙ্গা থানায় উভয় পক্ষ ফলপ্রসূ সমঝোতায় আসে। এ ঘটনায় এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছে গ্রামবাসী।
২৫ বছরের বিরোধের নেপথ্য
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর গ্রামে একটি বিলের মালিকানা ও লিজকে কেন্দ্র করে 'সালাম গ্রুপ' এবং 'মনসুর আলী চেঙ্গিস খান গ্রুপ'-এর মধ্যে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে ২২টি মামলা চলমান রয়েছে। বহু হতাহত ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতও হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
পুলিশের উদ্যোগে সমঝোতা
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত নিরসন ও এলাকায় স্থায়ী শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষ আলমডাঙ্গায় সমঝোতায় বসে। আলমডাঙ্গা থানার ওসি বাণী ইসরাঈল বলেন, 'কেশবপুর গ্রামের দীর্ঘদিনের এই সামাজিক দ্বন্দ্ব নিরসনে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে গ্রামবাসীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এখন থেকে সালাম ও চেঙ্গিস নিজেরা বসে মামলাসহ যত সমস্যা আছে তা সমাধান করবেন।' তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার চূড়ান্ত আপোসনামা স্বাক্ষরিত হবে।
গ্রামবাসীর উচ্ছ্বাস
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম এবং আলোচনা দারুণ ফলপ্রসূ হয়েছে। দেরিতে হলেও দুই যুগের বেশি সময় ধরে চলা এই সামাজিক দ্বন্দ্বের সফল মীমাংসার পর থানার সামনে উপস্থিত শতাধিক গ্রামবাসী মিষ্টি বিতরণ করেন। ২৫ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অবসানে গ্রামবাসী খুশি হওয়ায় আমরাও খুশি।' দীর্ঘ ২৫ বছর পর জেলা পুলিশের এমন ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মীমাংসায় সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।



