দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের পর অবশেষে একযোগে পদত্যাগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োজিত ১৮ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। তবে তাদের পদত্যাগের পেছনে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া
গত ২২ জুন এই ১৮ আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী এসব পদত্যাগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় থেকে পত্রগুলো রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরই তাদের নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হবে।
পদত্যাগকারীদের তালিকা
পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির, রেজাউল ইসলাম ও জাকির হোসেন।
পদত্যাগের কারণ
পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়োগ অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করায় প্রতিবাদস্বরূপ আমরা একযোগে পদত্যাগ করেছি।” অন্য পদত্যাগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য তৈরি হয়।
তারা জানান, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
পদত্যাগপত্রের বিষয়বস্তু
পদত্যাগপত্রে তাদের অনেকে লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগ কার্যকর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।



