টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা নেই, সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে: মন্ত্রী
টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা নেই, সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে টেলিটক সরকারের নিয়ন্ত্রণে

মন্ত্রী বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে টেলিটককে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রাখা হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নয়নে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—এই চারটি মোবাইল অপারেটর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেলিটকের সেবার মান উন্নয়নে আরও টাওয়ার স্থাপন প্রয়োজন। এজন্য সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও অর্থায়নের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছামতো সেবার মূল্য বাড়াতে পারে। তাই রাষ্ট্রীয় অপারেটর হিসেবে টেলিটককে কার্যকর অবস্থায় রাখা জরুরি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অব্যবহৃত ডেটা কেটে নেওয়া ও কলড্রপ নিয়ে উদ্বেগ

একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত ডেটা কেটে নেওয়ার বিষয়টি সরকারও উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে অপারেটরগুলো তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা তুলে ধরছে।

কলড্রপ নিয়েও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় তাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিজিটাল সংযোগ ও ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে ডিজিটাল সেন্টারে প্রবাসী হেল্প ডেস্ক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

দুর্বল নেটওয়ার্ক ও নতুন টাওয়ার স্থাপন

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেসব এলাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসান সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্বল নেটওয়ার্কের বিষয়টি তুলে ধরলে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে সেখানে নতুন টাওয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিটিআরসি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সম্মানী ও ডাকঘর সংস্কার

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার বিটিআরসির কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সম্মানী দেওয়ার অভিযোগ তুললে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম দেশের জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলোর সংস্কার অথবা অকার্যকর ডাকঘর বিলুপ্ত করার দাবি জানান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে। সবগুলো একসঙ্গে সংস্কার সম্ভব নয় বলে পর্যায়ক্রমে কাজ চলছে।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ

পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজে দক্ষ করে তুলতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। কিছু উপজেলায় প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, বাকিগুলোতেও পর্যায়ক্রমে চালু হবে। তবে পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।

৫জি সম্প্রসারণ ও ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড

নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী ৫জি সম্প্রসারণের জন্য অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ দশমিক ৩ ও ২ দশমিক ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডও উন্মুক্ত করা হবে।

চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মাধ্যমে এক লাখ তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া হবে।